DIGITAL

February 5, 2023

APTCE 18538973148

প্রসঙ্গ শিলচরের চিকিৎসক–একাল ও সেকাল

বিশেষ প্রতিবেদন 15 ই মে শিলচর——–দক্ষিণ আসামের প্রাণ কেন্দ্র শিলচর, এই বৃহত্তর এলাকা সহ পার্শ্ব বর্তী রাজ্য ত্রিপুরার  মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ভরসা হলো শিলচরের বে সরকারি হাসপাতাল গুলো ও শিলচর মেডিক্যাল কলেজ । এখানে বর্তমানে বাণিজ্যিক ভাবে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীর পরিবারের লোকজন ।

একদা এই শিলচর শহরের চিকিৎসক গন ছিলেন ভগবান সদৃশ , তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ডাঃ সুরেন্দ্র দত্ত , ডাঃ অমূল্য হালদার   ডাঃ, নবীনাক্ষ চৌধুরী , ডাঃ বি, ভট্টাচার্য , ডাঃ মন্ম ত দাস, ডাঃ নির্মল পুর কায় স্থ, ডাঃ মিশ্র ও ডাঃ কেনোযার প্রমুখ ।তাদের চিকিৎসার ধরন টা ছিল ভিন্ন , মানুষ বাঁচার জন্য তাদের কাছে ছুটে যেতেন , মরণাপন্ন রোগীর পরিবারের লোকজন শেষ মুহূর্তে তাদের কাছে নিয়ে যেতেন ।সূত্রের মতে তাদের কথায় ও তাদের আচরণে রোগী অর্ধেক আরোগ্য হয়ে যেতো । তারা প্রকৃত অর্থে চিকিৎসক ছিলেন , কখনো রোগীর গায়ে হাত দিয়ে বলতেন না , এতদিন কোথায় ছিলেন , কিছু দিন আগে নিয়ে আসলে ভালো হতো ।ফলে রোগী সুস্থ হতে দেরি হতো না আর রোগীর পরিবারের লোকজন  ও মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ত না ।তখনকার দিনে এই শহরে বর্তমানের মতো এত ল্যাব ছিল না তথাপি চিকিৎসক গন রোগ নির্ণয় করতে পারেন ।তাদের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে এখনও বরাক উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় চর্চা চলে ।

বর্তমানে শিলচর শহরের চিকিৎসক গন বাণিজ্যিক ভাবে চিকিৎসা পরিষেবা দেন । তাদের কাছে  ভগবানের দূত হিসেবে আমজনতা ছুটে আসেন শুধু মাত্র সুস্থ  হয়ে  উঠতে , কিন্তু তাদের কথায়  ও আচরণে রোগী সুস্থ হয়ে উঠা দুষ্কর হয়ে যায় , যদি রোগী বেহুঁশ অবস্থায় থাকে  তাহলে বাঁচার আশা থাকে নাহলে চিকিৎসক গন যখন বলেন দেরি হয়ে গেছে ,এতদিন কি করছিলেন , ভর্তি করান দেখা যাক কি করা যায় । এসব কথা শুনে রোগীর পরিবারের লোকজন স্বভাবতই মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা ।এরপর শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা , নির্দিষ্ট ল্যাব থেকে পরীক্ষা করা বাধ্যতা মূলক, অবশ্য বর্তমানে সব নার্সিং হোমে তাদের নিজেদের ল্যাব আছে ।শিলচরের প্রবীন নাগরিক গন কে বলতে শুনা যায় এখনকার মতো 10/12 টা ঔষধের নাম উনারা কখনও লিখতেন না ,কম ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করা হতো ।

আজকের এই প্রতিবেদন কোন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নয় , শুধুমাত্র বর্তমান চিকিৎসক ও আগেকার দিনের এই শিলচর শহরের চিকিৎসক যে ভাবে চিকিৎসা পরিষেবা দিতেন তার সাথে তুলনা করা হয়েছে ।বর্তমানে যে সব চিকিৎসক বাণিজ্যিক ভাবে চিকিৎসা করেন তা নয় যেমন ডাঃ সুজিত বিশ্বাস , ডাঃ ভাস্কর দেব নাথ , ডাঃ সুমন বৈদ্য , ডাঃ বড় ভূঁইয়া প্রমুখ অল্প হলে ও ভালো কথা বলেন বলে চর্চা হয় । এই করোনা সংক্রমণের সময় সাধারণ মানুষ চিকিৎসা করাতে গিয়ে কি যে লাঞ্ছিত হন তার এক গাদা অভিযোগ পাওয়া গেছে । মেডিকেল কলেজেক চিকিৎসক গন পি পি কিট ব্যবহার করে ও রোগীর গায়ে হাত দিতে সংকোচ বোধ করেন এমনতর দৃশ্য সংবাদ মাধ্যমের চোখ এড়িয়ে যায় নি , কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় এইসব চিকিৎসক গন তাদের চেম্বারে যখন বসেন মোটা অঙ্কের ফির জন্য তখন তো কিট পরিধান করেন না , আর রোগীর গায়ে হাত দিয়ে ভালো ভাবে পরীক্ষা করেন , অনেক কে বলতে শুনা গেল তখন নাকি ডাক্তার বাবু গন ব্যবসার খাতিরে করোনা কে ছুড়ে ফেলে দেন ।এভাবেই চলছে আমাদের বরাক উপত্যকার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা ।মনে হয় অভিভাবক  শূন্য বরাক উপত্যকা ।