DIGITAL

October 5, 2022

APTCE 18538973148

কাছাড় জেলার ২২জন কে বিদেশি ঘোষণা করলো বিদেশি আদালত , জোরদার চর্চা চলছে

নিজস্ব সংবাদদাতা শিলচর ২৫শে জানুয়ারি–  আজ দুদিন ধরে ব্যাপক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে একটি কথা ঘোরপাক খাচ্ছে যে কিসের উপর ভিত্তি করে এই ২২ জন কাছাড় জেলার বাসিন্দা দের বিদেশি আদালত একতরফা ভাবে বিদেশি ঘোষণা করলো আর কেনই বা তাদের নথিপত্র জব্দ করতে আদেশ দিলো, এভাবেই সাধারণ মানুষ মত প্রকাশ করছেন।

এখন স্বাভাবিক ভাবেই বিশেষ করে যারা পূর্ব পাকিস্তান থেকে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে ভারতের মাটিতে পা রাখেন তারা এই রায়ের খবর পেয়ে রীতিমত বিচলিত হয়ে পড়েছেন। এদিকে বিদেশি আদালত আসাম চুক্তির ধারা অনুযায়ী সেই ১৯৮৫ ইংরেজি থেকে আজ অবধি সেই মতে তাদের রায় ঘোষণা করছে , এখানে ও তার কোনো পরিবর্তন হয়নি । বিদেশি– বলতে কিন্তু দুরকম ভাবে ভাগ করা হয়েছে, একধরনের বিদেশি যারা ১৯৬৬-১৯৭১ ইংরেজীর মধ্যে আসামে এসেছেন আর আরেক ধরনের বিদেশি যারা অনুপ্রবেশ কারী হিসেবে বিবেচিত হবেন তারা হলেন ১৯৭১ ইংরেজীর ২৫শে মার্চের পর আসামে এসেছেন । এক কথায় অভিশপ্ত (৬) এ ধারা অনুযায়ী আসামে বিদেশি বাছাই করা হবে।

এই প্রতিবেদক বেশ কিছু মানুষের সাথে আলাপ করে বুঝতে পারেন যে আসাম চুক্তির বিষয়ে তারা অবগত নন। তাদেরকে এমনটাই বুঝানো হয়েছে বিভিন্ন দল সংঘটনের তরফে ,  হিন্দু বাঙালি দের কোনো অসুবিধা নেই । কিন্তু দুদিন আগে যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে তাতে দেখা গেছে সবাই হিন্দু সম্প্রদায়ের।আর এতেই তাদের মধ্যে এক অজানা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে জনৈক ব্যক্তি বিদেশি আদালতের একটি রায়ের কপি দেখিয়ে নিজেই হতবাক হয়ে যান , সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এই রায়ের কপি পাওয়ার ভেবেছেন যে তিনি ভারতীয় নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হয়ে গেছেন, কিন্তু না তিনি ১৯৬ ইংরেজীর মে মাসে আসামে এসেছেন তথাপি তাকে বিদেশি ঘোষণা করেছে আদালত । তিনির এই কপি দেখে যারা এই সময়ে আসামে এসেছেন তাদের মধ্যে বিরাট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, কারণ এই সময়ে আসামে লাখ লাখ মানুষ   এসেছেন ,এদের কে ও এই ভাবে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে । কারণ আইন তো একটাই ।

গতকাল এই ২২ জন বিদেশি ঘোষণার খবর চাউর হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে বিজেপি দলের সমালোচনা করে একাংশ লোক মত প্রকাশ করেছেন , একাংশ ভাবছেন শূধূ ভাষিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর খাড়া নামবে কিন্তু এমনটা ভাবা সংকীর্ণ মনের পরিচয় ,আসাম চুক্তির ছয় নম্বর ধারায় কিন্তু  ভাষিক ও ধর্মীয় বলে কোনো উল্লেখ নেই, কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় এই ধারাকে রাঙিয়ে তোলে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করা হয়েছে বলে সচেতন মহল মন্তব্য করেছেন।  আর এই আসাম চুক্তি অনুযায়ী বিদেশি বাছাই করতে ও নাগরিক পঞ্জি তৈরি করতে আসামের প্রতিটি রাজনৈতিক দল সহমত প্রকাশ করে  এফিডেবিট দিয়েছে আর সেটার উপর ভিত্তি করেই মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট সীল মোহর এঁটে দিয়েছে । এখনো আর শুধু আলোচনা আর সমালোচনা করেই ক্ষান্ত থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন অসহায়  দরিদ্র মানুষ ।