DIGITAL

February 5, 2023

APTCE 18538973148

লক্ষ্মাধিক ভক্তের সমাগমে আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হলো বারুনী মেলা

বিশেষ প্রতিবেদন ৩০শে মার্চ—- আজ মধূকৃষ্ণা ত্রয়োদশী,শতবিশা নক্ষত্র, আজকের এই পূণ্যময় দিনে কপিল মুনির তপস্যায় তুষ্ট হয়ে দেবাদিদেব মহাদেব লিঙ্গ রূপে প্রকট হন বরাক নদীর তীরে অবস্থিত এই কপিল মুনি খ্যাত সিদ্ধেশ্বর শিব মন্দিরে। ভাগবত গীতায় ভগবান কপিল মুনির সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে বৃক্ষ রুপে আমি  বট ঋষি রুপে আমি দেবর্ষি নারদ, গন্ধর্ব গনের মধ্যে আমি চিত্র রথ, সিদ্ধ গনের মধ্যে আমি কপিল।

যেখানে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভাগবত গীতায় কপিল মুনি কে সিদ্ধ যোগী বলেছেন সেখানে এই কপিল মুনির আশ্রম হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হিসেবে বহূকাল ধরে বিবেচিত হয়ে আসছে,তাই তো সমগ্র ভারতের সাধূ সন্ত এবং ভক্ত বৃন্দ আজকের এই পূর্ণ তিথিতে বরাক নদীতে বারুনী স্নান করে গঙ্গসাগর স্নানের ফল লাভ করেন।যদিও কপিল মুনির মূল আশ্রম পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যে অবস্থিত কিন্তু আসাম রাজ্যের বরাক উপত্যকার সিদ্ধেশ্বর শিব মন্দির এই বৃহত্তর এলাকার মানুষের কাছে কপিল আশ্রম বলে পরিচিত । মূল আশ্রমে স্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত হয় প্রতি বছর মকর সংক্রান্তির দিন আর আমাদের পবিত্র কপিল মুনির সিদ্ধি লাভ স্থান সিদ্ধেশ্বর শিব মন্দিরে চৈত্র মাসের মধু কৃষ্ণা  ত্রয়োদশী তিথির শতবিশা নক্ষত্র দিনে স্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়।আজ এই পূণ্যময় দিনে বরাক নদীর উভয় তীরে দূর দুরান্তের হিন্দু সম্প্রদায়ের লক্ষাধিক ভক্ত পূর্ব পুরুষদের তর্পণ করেন,কেউ বা এসেছেন নিকট আত্মীয় দের অস্থি বিসর্জন করতে কেউবা এসেছেন শুধু স্নান করতে,এক অপরূপ সুন্দর দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে ভোরের আলো ফূটতেই । অবশ্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভক্ত দের তাড়াহুড়ো করতে চোখে পড়ে নি।

এখানে উল্লেখ্য যে বরাক উপত্যকার প্রাচীন গ্রাম্য মেলা হিসেবে পরিচিত এই মেলার এক বিশেষত্ব হলো লুপ্ত প্রায় কুঠির শিল্পের সামগ্রী এখানে পাওয়া যায়,তাই এই সব সামগ্রীর মধ্যে গাইল চিয়া,পাটাপোতা,মাছ ধরার জাল সহ অন্যান্য বাঁশ দিয়ে তৈরি সামগ্রী গূলি অন্যতম। এদিকে বিভিন্ন ধরনের আচার এই মেলায় পাওয়া যায় , যা কিনা সচরাচর দেখা যায় না। এই মেলা সুন্দর ও আকর্ষণীয় করতে জেলা প্রসাশন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে আজ দেখা গেছে।