DIGITAL

September 30, 2022

APTCE 18538973148

কাঠিগড়ার অবর্ণনীয় বন্যা পরিস্থিতির জন্য দায়ী ব্রহ্ম পুত্র বোর্ডের অপরিকল্পিত স্লুইসগেট-অভিমত

বিশেষ প্রতিবেদন ২৩ শে মে শিলচর—- এবারের বড়খলা ও কাঠিগড়ার অবর্ণনীয় বন্যা পরিস্থিতির জন্য দায়ী ব্রহ্ম পুত্র বোর্ডের অপরিকল্পিত ভাবে  স্লুইসগেট নির্মাণ। ৯০  দশকে তৎকালীন শিলচরের সাংসদ প্রয়াত সন্তোষ মোহন দেব বড়খলা বিধানসভা চক্রের সোনাপুর গাঁও পঞ্চায়েতের অধীন বিস্তীর্ণ জলাশয় ভরাট করে এই এলাকার আনুমানিক এক হাজার একর জমি কৃষি উপযোগী করার উদ্দেশ্যে হারাঙ নদীর খাল খনন করে হারাঙ ড্রেনেজ স্কীম নামে এক প্রকল্প কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে মঞ্জুর করেন। মোট আড়াই কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়।এই প্রকল্পের সমীক্ষা রিপোর্ট তৈরি করার জন্য দিল্লীর এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কে নিযুক্ত করা হয়।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের সমীক্ষা রিপোর্ট তৈরি করা হয় অপরিকল্পিত , যেখানে এই ড্রেনেজ ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেই স্থান কে ছেড়ে এই প্রতিষ্ঠানটি যে রিপোর্ট তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দিয়েছে তা রীতিমত অবাক করার মতো । এখানে উল্লেখ্ করা আবশ্যক বড়খলা বিধানসভা চক্রের সোনাপুর গাঁও পঞ্চায়েতের অধীন বিস্তীর্ণ জলাশয় ভরাট করার জন্য ও এই স্থানের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা করতে হলে এই বড়খলা এলাকার জমিতে নূতন করে খাল খনন করে ও পুরোনো হারাঙ খনন করে  বানাই মুল্লা হয়ে বরাক নদীতে ফেলার কথা থাকলেও সেটা করা হয় নি। উল্টো সমীক্ষা রিপোর্ট তৈরি করার জন্য নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে যে এই এলাকায় সুরমা নদীর জল ঢুকে পড়ে বড়খলা ও কাঠিগড়া এলাকা প্লাবিত করে , তাই সুরমা নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ সহ এই অঞ্চলে প্রবাহিত দুইটি খাল যথাক্রমে কাকড়া খাল ও কিন্নর খালে বড় ধরনের সুল্যূইস গেইট তৈরি করার জন্য প্রস্তাব দেয়। প্রথম দিকে এই ড্রেনেজ প্রকল্পের জন্য আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও পরবর্তীতে এই স্কীম মাষ্টার ড্রেনেজ স্কীম হিসেবে ঘোষণা করে ব্রহ্ম পুত্র বোর্ডের অধীনে কাজ শুরু হয়। উঁচু উঁচু বাঁধ নির্মাণ সহ জল নিষ্কাশন গেইট তৈরি করা হয়।

এখানে উল্লেখ্য যে এই সময়ে কাঠিগড়া বিধানসভা চক্রের বিধায়ক ছিলেন প্রয়াত কালী রঞ্জন দেব ও বড়খলা বিধানসভা চক্রের বিধায়ক ছিলেন মিসবাহুল ইসলাম লস্কর। বিচক্ষণ কালী রঞ্জন দেব ভেবেছিলেন যে হারাঙ ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ কাঠিগড়া এলাকায় বাস্তবায়ন হলে হাওর এলাকার মানুষ বিরাট ভাবে উপকৃত হবেন এবং জলাশয় ভরাট হয়ে এই এলাকার ভুমি কৃষি উপযোগী হবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে কি? বরং আগে এই হাওর অঞ্চলে বন্যা হতো ,এত   উঁচু বাঁধ বা জল নিষ্কাশনের গেইট ছিলো না ,সুরমা নদীর জল উল্টো ভাবে এই এলাকায় প্রবেশ করলে ও যখন সুরমা নদী স্বমহিমায় ফিরে যেতো তখন এই হাওর এলাকার জল ও বের হয়ে যেতো। কিন্তু এখন সুরমা নদীর জল ঢুকে না অন্যদিকে কাকড়া খাল ও কিন্নর খালের জল গেইট বন্ধ থাকার ফলে এই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জল মানুষের কাছে অভিশাপ হয়ে উঠেছে। ফলে এই কাঠিগড়া এলাকার মানুষ আজ দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুনছেন কখন গেইট খুলে দেওয়া হবে। এরমধ্যে কি যে অসহায় জীবন যাপন করছেন লক্ষ্ লক্ষ্ মানুষ তা অবর্ণনীয়।

এদিকে বড়খলা বিধানসভা চক্রের সোনাপুর গাঁও পঞ্চায়েতের অধীন বিস্তীর্ণ জলাশয় যেখানে হারাঙ ড্রেনেজ প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা আগের মত রয়েছে বরং এই অঞ্চলের বন্যার জল ছিটে ফোটে যা কিনা কাঠিগড়ার হাওর হয়ে সুরমা নদীতে যেতো তাও এই অপরিকল্পিতভাবে ভাবে বাঁধ ও জল নিষ্কাশনের গেইট নির্মাণের ফলে তা ও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে হারাঙ ড্রেনেজ প্রকল্প এই দুই বিধানসভা এলাকার মানুষের কাছে আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।