DIGITAL

January 27, 2023

APTCE 18538973148

আসামে বসবাসরত হিন্দু বাঙালি সম্প্রদায়ের ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে হিন্দু অসমীয়া বাঙালি সাহিত্য সভা একান্ত প্রয়োজন —- অভিমত

বিশেষ প্রতিবেদন ২৬ শে আগষ্ট শিলচর —- সেই ১৯৬১ ইংরেজীতে বাংলা ভাষার জন্য নিজের প্রাণ আহূতি দিয়ে যেসব ভাষা সেনানী শহীদ হয়েছিলেন তাঁদের কে সম্মান জানিয়ে আজকের এই প্রতিবেদন। আজ ২০২২ ইংরেজী চলছে প্রায় ৬১বছর পার হতে চলেছে কিন্তু তাদের কে স্মরনীয় করে রাখতে শিলচর রেল স্টেশনের নাম ভাষা শহীদ স্টেশন নাম করন করতে এত জল ঘোলা হচ্ছে কেন তা নিয়ে রীতিমতো খেদ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক গন।সেই ১৯৬১ ইংরেজীর ১৯ শে মে বাংলা ভাষার জন্য যে ১১ জন শহীদ হয়েছিলেন তাঁদের নিয়ে বিগত দিনে যেভাবে রাজনীতি শুরু হয়েছিল আজও সেই ধারাবাহিকতায় ভাষা শহীদ স্টেশন নাম করন নিয়ে রীতিমতো টালবাহানা চলছে।

যখন ই ভাষা শহীদ স্টেশন নাম করন নিয়ে আন্দোলন শুরু হয় তখনই বিভিন্ন অজুহাতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আপত্তি চলে আসে,তাই প্রতিটি সরকারই ভাষা শহীদ স্টেশন নাম করন থেকে পিছিয়ে যায়, আবারও বাঙালি সংগঠনের নেতারা চুপচাপ বসে পড়েন।ভাবা গেছিলো এবার মাননীয় মূখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মহাশয় এই বিষয়ে সদর্থক ভুমিকা গ্রহণ করে বাঙালি অধ্যুষিত বরাক উপত্যকার মানুষের আবেগ বিজরিত ভাষা সেনানী দের নামে শিলচর রেলওয়ে স্টেশনের নাম ভাষা শহীদ স্টেশন হিসেবে ঘোষণা করার কার্যকর পদক্ষেপ হাতে তুলে নিয়ে বিগত দিনের কংগ্রেস সরকারের দ্বিচারিতা দূর করে দিবেন। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় বিচক্ষণ মূখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রলয়ঙ্করী বন্যার পূর্বে যখন বরাক উপত্যকায় এসেছিলেন তখন ভাষা শহীদ স্টেশন নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা তাঁর সাথে মিলিত হন,তখন কৌশলে শিলচরের বিধায়ক ও মন্ত্রী পরিমল শুক্ল বৈদ্য মহাশয়ের কাছে এই বিষয়ে সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ প্রদান করেন।

এখানে উল্লেখ্য যে বিগত দিনের কংগ্রেস সরকারের আমল থেকে বর্তমান সরকারের সময়ে ও বরাক উপত্যকার বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন বারবার বাঙালি জাতির আবেগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম দিবস এবং ১৯ শে মে ভাষা শহীদ দিবস কে অন্তত বরাক উপত্যকার একাডেমিক ক্যালানডারে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে আসছেন, কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় কোনো সরকার এই বিষয়ে সদর্থক পদক্ষেপ হাতে নিতে চাননি জাতীয়তাবাদী দল সংগঠনের ভয়ে এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি আসামের শিক্ষা বিভাগের তরফে রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সাহিত্য সভা কে ডেকে নিয়ে আলোচনা করা হয় কিন্তু দুঃখের বিষয় আসামে থাকা বিভিন্ন বাঙালি সংগঠন যেমন নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন উত্তর পূর্বাঞ্চল রাজ্য পরিষদ,বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন, শিলচর, বাংলা সাহিত্য সভা অসম গৌহাটি ভিত্তিক এছাড়া পূর্ব বঙ্গীয় মুসলমান দের সাহিত্য সভা সহ বিভিন্ন বাঙালি সংগঠন কে আমন্ত্রণ ও জানানো হয় নি, এনিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও হয়েছে।

এই প্রতিবেদক বাঙালি সংগঠনকে  ব্রাত্য করার কারন জানতে জনৈক অসমীয়া জাতীয়তাবাদী নেতা কে প্রশ্ন করলে তিনি সোজা সাপটা বলেন যে ১৯৭২ ইংরেজীর ২১জুন রাজ্য পূনর্গঠন কমিটির প্রস্তাব গুলি পড়ে নিতে সেখানে উল্লেখ আছে আসাম রাজ্য কিসের ভিত্তিতে গঠন করা হয়েছে এখানে বাঙালি সংগঠন কে আমন্ত্রণ জানানোর আর না জানানোর কি আছে।

তাই আসামে বসবাসরত হিন্দু বাঙালি সম্প্রদায়ের ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে হিন্দু অসমীয়া বাঙালি সাহিত্য সভা গঠন করা আবশ্যক বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট জনেরা যদি ও বা একাংশ বাঙালি সংগঠনের নেতারা আপত্তি দর্শাতে পারেন তথাপি আসাম রাজ্য ভিত্তিক সাহিত্য সভা গঠন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন,  সংশ্লিষ্টরা এভাবেই আজ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।