DIGITAL

May 30, 2023

APTCE 18538973148

দূর্ণীতির দায়ে গ্রেফতার পঞ্চায়েত সচিব — তাও আবার অবসর গ্রহণের একদিন পূর্বে

লক্ষ্মীপুর থেকে অসীম রায়ের প্রতিবেদন ৩০ শে এপ্রিল — বিধির বিধান।   বিন্না কান্দি উন্নয়ন খন্ডের অধীন বোয়ালী  চেঙজুর ও এবং ছোট মামদা গাঁও পঞ্চায়েতের সম্পাদক রথীস ধরের ছিলো তার চাকরি জীবনের অবসর গ্রহণের দিন আজ  ।পেতে ছিলেন বিদায় সংবর্ধনা, তার পরিবর্তে আজ তিনি লাল ঘরে চলে গেলেন। দূর্ণীতি বাজ দের এমনটাই স্বাভাবিক বলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

এখানে উল্লেখ্য যে গ্রাম উন্নয়ন বিভাগের পাহাড় সম দূর্ণীতির বিরুদ্ধে সরকার যত লাগাম টানুক না কেনো তা কোনো দিন ই নিয়ন্ত্রণে যে আসছে না তার জ্বলন্ত উদাহরণ আজকের এই গ্রেফতারের ঘটনা। সর্বত্রই পঞ্চায়েত সচিব,জি আর এস, এবং  পঞ্চায়েত প্রতিনিধি মিলে যথেচ্ছ দূর্ণীতি করে চলেছেন।মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করা গরীব মানুষ দের নামে ভুয়া জিও টেক করে অর্থ আত্মসাৎ করছেন অন্যদিকে একই বাড়িতে বছর বছর প্রধানমন্ত্রী আবাস গৃহ পাইয়ে দিচ্ছেন, এদিকে ২০১১ ইং সালের আর্থ সামাজিক সমীক্ষা রিপোর্টের তালিকা কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিত্ত শালী পরিবারের নামে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার গৃহ বরাদ্দ করছেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে এসবের বিরুদ্ধে নালিশ জানালে ও কোনো ধরনের তৎপরতা শুরু হয়না বলে জানিয়েছেন একাংশ বঞ্চিত মানুষ।

পঞ্চায়েতের দূর্ণীতির বিরুদ্ধে কাছাড় জেলা পরিষদের প্রশাসক মাননীয় রঞ্জিত কুমার লস্কর যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা রীতিমত ব্যতিক্রম বলে জানিয়েছেন একাংশ সচেতন নাগরিক গন। তাদের মতে এর আগে বারবার বরাক উপত্যকার বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকার দূর্ণীতির বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের কার্যাবাহী আধিকারিক কে অভিযোগ জানিয়ে কোনো লাভ হয়নি। এমতাবস্থায়  গতকালের এই গ্রেফতারের ঘটনা চাউর হতেই বঞ্চিত মানুষ আইনের প্রতি পুনরায়  শ্রদ্ধাশীল হতে দেখা গেছে। এখানে উল্লেখ্য যে এমজিএনরেগা  প্রকল্পের ভূয়া কাজ এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস গৃহ বন্টনের দূর্ণীতি  কালাইন ও বড়খলা উন্নয়ন খন্ড এলাকায় দেদার  হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ করে কোনো লাভ হয়নি।

এদিকে  বেশ কিছুদিন ধরেই লক্ষ্মীপুর মহকুমার বিন্না কান্দি উন্নয়ন খন্ড এলাকার বোয়ালী চেঙজুর ও ছোট মামদা গাঁও পঞ্চায়েতের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিভিন্ন যোজনা সহ প্রধানমন্ত্রী আবাস গৃহ পাইয়ে দিতে দেদার অর্থ লেনদেনের খবর সামাজিক মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়েছে এবং এই এলাকার মানুষ এইসব দূর্ণীতির বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ করে আসছেন কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি বরং আরও বেপরোয়া ভাবে লুন্ঠন কাজ শুরু হয়।  এবার মাত্রাতিরিক্ত দূর্ণীতির অভিযোগ বর্তমান জেলা পরিষদের কার্যাবাহী আধিকারিক রঞ্জিত কুমার লস্কর মহাশয়ের দৃষ্টি গোচর হয় এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে তিনি পঞ্চায়েত সচিব রথীস ধর,জিআর এস অমৃত লাল গোয়ালা ও কৃপা সিন্ধু  বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার সুত্রে গতকাল পঞ্চায়েত সচিব রথীস ধর কে তার বাড়ি থেকে পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে আসে কিন্তু এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুই জিআর এস কে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি। রথীস ধর কে পরে শিলচর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমগ্র বরাক উপত্যকার প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন আর টি কর্মীরা সহ সামাজিক সংগঠন গুলো এবং  বিশিষ্ট সমাজ সেবী গন জেলা পরিষদের কার্যাবাহী আধিকারিক রঞ্জিত কুমার লস্কর কে ধন্যবাদ জানিয়ে বড়খলা বিধানসভা ও কাঠিগড়া বিধানসভা চক্রের বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকার দূর্ণীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।